‘ইগো এন্ড ইটস ওন’- ম্যাক্স স্টার্নার প্রনিত পুস্তকের বাংলায় অনূদিত ধারাবাহিক- ৪

(Comments)

‘ইগো এন্ড ইটস ওন’- ম্যাক্স স্টার্নার প্রনিত পুস্তকের বাংলায় অনূদিত ধারাবাহিক- ৪

ভাষান্তরঃ এ কে এম শিহাব

আমাদের প্রাচীনগণঃ

প্রথা ও রীতিনীতির  আলোকে এককালে বলা হয়েছিলো, যারা আমাদের খ্রিষ্টধর্ম আবির্ভাবের পূর্বে উত্তরাধিকারী তাদেরকে প্রাচীন মানুষ হিসাবে অবিহিত করা যায়। আমরা ও এর কোন প্রকার বিরুধিতা করছি না, পূর্ব পুরুষদের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতার তুলনা করলে  অনেক ক্ষেত্রে নিজেদেরকে শিশু বলেই  মনে হয়। তাই পূর্ব পুরুষদের জন্য আমাদের সম্মান প্রদর্শন অব্যাহত রাখা চাই । কিন্তু তাঁরা আমাদেরকে কেমন করে উদ্দিপ্ত করতে পারেন বা পুরাতনদের স্থলে নতুনদের স্থান কেমন করে প্রশস্ত করা যায় ?

আমরা অবশ্যই জানি, বিপ্লবের উদ্ভাবক এবং আমারদের উপেক্ষিত উত্তরাধিকার, যিনি পবিত্র রবিবারকে একটি বিশ্রামের দিনে প্রবর্তন করে নয়া সংস্কৃতির প্রবর্তন করেছিলেন, এটা ছিলো এগিয়ে যাবার একটি নতুন ক্রমধারা;  আমরা তাকে চিনি, আর তিনি ছিলেন একজন- খ্রিষ্টান । তিনি সকল সময়েই তরুন ছিলেন, এবং তিনি কি সত্যি একজন নতুন ধরনের মানুষ ছিলেন, তিনি কি নিপিড়িত হয়ে ছিলেন, বা তিনি কি “প্রচীনত্বকে” বর্জন করেছিলেন?

আমাদের পিতৃপুরুষেরা অবশ্যই নিজদের কৃতিত্বে সন্দ্বহ মুক্ত হবেন এবং তরুন্দেরকে নিজেদের কর্ম সম্পর্কে অবাক করে দেবার প্রয়াস চালাবেন। তা হলে দেখুন, এখনকার প্রজন্ম কেমন কাজ করছে।

 ফয়েরবাখ বলেছিলেন, “ প্রাচীন লোকদের একটি সত্য জগত ছিলো”, কিন্তু তিনি এই কথাটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় যুক্ত করতে ভূলে গেছেন, “ এটা সত্য যে তাঁরা একটি অসত্যকে আবিস্কার করতে চেস্টা করেছেন, কমপক্ষে তাদের সেই প্রয়াস টি ছিলো”। ফয়েরবাখ আসলে কি বুঝাতে চাইছেন তার সেই কথার ভেতর দিয়ে, খুব সহজেই খ্রিস্টিয়ান মতাদর্শের বিপরীতে দাঁড়  করানো যায়, “ বিশ্বের ভয়ঙ্করতা এবং পরিবর্তন”। এই বাক্যটির মর্মার্থের দিকে তিনি দৃস্টি আকর্ষন করেন। একজন খ্রিষ্টান মতাদর্শের লোকেরা কোন ভাবেই ঈশ্বরের বাণীর বিপরীত কথা মানতে চাইবে না – তাঁরা বিশ্বাস করে অনন্ততা ও স্থিরতায় তাঁরা সেই সত্য আবিস্কারের জন্য আরো গভীরে গিয়ে তালাশ করেন। অবিরত হাতড়ে মরে প্রহেলিকার পিছু পিছু। আমরা চাই সব কিছু হোক উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত ভাবে – অন্দ্বকারের পথে নয়। প্রাচীন লোকেরা সম্পর্কে অতিশয় গুরুত্ব দিতেন। যেমন- রক্তের সম্পর্ককে তাঁরা প্রাকৃতিক সম্পর্ক হিসাবে বিবেচনা করতেন। আমিত্ব বা “অহম” কে সকল কিছুর উর্ধে স্থান দিতেন। প্রাচীন লোকেরা যে সকল নীতি বা মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেন খ্রিষ্টান গন কিন্তু তাদেরকে খুব গুরুত্ব দেন না, তাঁরা এমন কিছু বিষয়কে চিহ্নিত করেছে যাকে তাঁরা মিথ্যা মনে করেন। পিতৃভূমির প্রতি যে উঁচু মাপের প্রেম বা ভালবাসা দির্ঘকাল চলে এসেছে তা তাঁরা উড়িয়ে দেন। তাঁরা গভীর ভাবে বিশ্বাস করেন যে আমরা আদতে “এই দুনিয়ায় পথিক মাত্র”। মৃত্যুর পর যে সকল রীতিনীতি প্রচলিত ছিলো তার আমূল পরিবর্তন আনয়ন করে ফেলেন । তাঁরা এটাকে অর্থহীন কর্মে রূপদেয়। তাঁরা মৃতকে দ্রুত কবরস্থ করতে তাগিদ দেন । তাঁরা পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে অতীতের কঠোর বন্দ্বনের বিপরীতে তাকে সহজি করন করে দেয়। যৌথ পরিবারের ট্যাবুতে তিব্র আঘাত হানে খ্রিষ্টান আদর্শ।

আমারা যদি কোন জিনিসের দুই দিকেই সত্য দেখতে পাই, তবে তা হতে পারে এক দিকে পাকৃতিক এবং অন্যদিকে বুদ্বিবৃত্তিক সত্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এই দুইটির একটি পার্থিব এবং অন্য টি স্বর্গীয় হতে হবে।( স্বর্গীয়টি হতে পারে পিতৃভূমি “জেরুসালেম পরম শ্রদ্বেয় ইত্যাদি”। এটা এখোনো বিবেচনা করা হয়ে থাকে যে আসলে কি আমরা সেই প্রাচিনত্ব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছি? তবে প্রাচীন লোকেরা চেস্টায় ত্রুটি করে নাই সেই সত্য বিষয়টিকে মিথ্যা প্রমান করতে ।

আসুন আমরা প্রাচীন শতাব্দীর সেই উজ্জ্বল সময়ে এক সাথে মিলিত হয়ে অনুধাবন করি। কেমন করে সফিস্টিক সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ল, গ্রীকগন তাদের অতীতের বিষয় গুলো সকলের সামনে হাজির করতে সক্ষম হলো? এর মধ্যেই সভ্যতার জীবন্ত বীজ লুকিয়ে আছে।

আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে প্রতাপশালী কেন্দ্রীভূত এক ক্ষমতা কাঠামো দাসে পরিনত করেছিলো। আগামী প্রজন্মের জন্য তা হয়ত বিশেষ শিক্ষার জন্য সহায়ক হয়ে আছে, মানব জাতির অভিজ্ঞতায় তা ছিলো মানুষের মন ও মননে ঝাঁকি দেবার মত বেদনাদায়ক এক অধ্যায়। আর সেই পরিস্থিতিতেই সোফিস্টগন সাহসিকতার সাথে আহবান জানালন, “ নিজদেরকে বোকা বানাবেন না!” এবং যৌক্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এই ভাবে, “ সকল কিছুর মোকাবিলায় আপনার বুদ্বিমত্তা ও মেধা ব্যবহার করুন, আপনার নিজের অবস্থান, আপনার মন ও মনন যথাযথ ভাবে ব্যবহার করুন; বিশ্বের সমস্ত কিছু বুঝে কাজ করার এটাই হলো এক উত্তম পন্থা, তাতে নিজেকে সমৃদ্ব করা যায় এবং তাতে জীবনে আনন্দ ও মিলে”। আসল কথা হচ্ছে, মন ই হলো দুনিয়া চেনার উত্তম হাতিয়ার। আর সেই জন্য দরকার হলো দ্বান্দ্বিক সূত্রের উপর দক্ষতা, ভাষার উপর দখল, এবং যুক্তিতর্ক করার মত যোগ্যতা ইত্যাদি। তাঁরা ঘোষণা করেন সকল কিছুতেই নিজের মন কে ব্যবহার করুন; কিন্তু তখনো তাঁরা পবিত্রতার ধারনা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছিলেন। তখনও তাদের নিকট এই বিষয় গুলো দরকারী বস্তু হিসাবেই পরিগনিত হচ্ছিলো, শিশুদের উন্নয়নে এটাকে কার্যকরী ভাবা হত; তাদের মন তখন ও অনেকাংশেই ছিলো প্রহেলিকাময়।

আজ আমরা এই ধরনের বুঝাপড়াকে একপেশে দৃষ্টি ভঙ্গীর সংস্কৃতি হিসাবে অবিহিত করে আরো সচেতন হবার জন্য বলতে পারি, “ বুঝাপড়ার জন্য কেবল নিজে জ্ঞান বুদ্বিকে নয়, হ্রদয়কে ও ব্যবহার করুন”।  সক্রেটিস ও তাই করেছিলেন, যদি প্রচলিত ধ্যান ধারনা থেকে নিজের হ্রদয় মুক্ত না হয়, তবে তা দৈব উপাদানে পূর্ন থেকে যাবে, আর ভর করবে নানা প্রকার অনিশ্চিয়তায়, ফলে শক্তি ও সামর্থ নানা চাহিদার টানে দোলতে থাকবে- আর তখনই তাঁরা “দুস্ট হ্রদয়ের” আকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করতে সচেষ্ট হয়ে উঠবে।

তাই, সক্রেটিস বলেছেন, সকলের জন্য সব কিছু বুঝা সম্ভব নয়। তবে এই বিষয়ে সকলেরই কিছু প্রশ্ন থাকতে পারে। আমাদের বলা দরকার যে, “ প্রত্যেকেরই “ভালো কাজ” করা উচিৎ। নৈতিকতার দাবী হচ্ছে- সকলের জন্যই ভালো কাজ করা । তাই এটা স্পস্ট যে, সক্রেটিসই হলেন নৈতিকতার প্রতিস্টাতা। 

অবশ্যই সফিস্টিক নীতির ভিত্তিতে মানুষকে কোন সম্ভাবনার দিকে পরিচালিত করবে যা অন্দ্বভাবে এবং নির্ভরশীল দাসত্বের আকাঙ্ক্ষার আলোকে নির্দেশিত হবে, যাকে একটি পরিশিত দার্শনিকতা বলা যায়, এবং সকল কিছুই তার সুক্ষ বিচারে মনের দিক থেকে উত্তির্ন হবে। খোঁজতে গেলে হয়ত ভালো কাজের  পেছনে কোন শক্ত যুক্তি নাও থাকতে পারে, তাতে কি প্রবল বা হালকা বাঁধা বিপত্তি তৈরী করে  চলমান শ্রুত দ্বারাকে আটকানো যায় ?  

মহান চিন্তক সক্রেটিস বলেছেন, “ আপনার চতনা মূল্যবান হলে অবশ্যই আপনার হ্রদয় খাঁটি হতে হবে”। এই ক্ষেত্রে গ্রীক মানসে চিন্তার স্বাধীনতার দ্বিতীয় অধ্যায় সূচিত হয়, তাকে হ্রদয় পরিস্কার করনের সময় কাল হিসাবে ও বলা যেতে পারে। প্রথমটির জন্য সফিস্টগন বিষয় বস্তু বুঝার উপর বেশী গুরুত্ব আরোপ করেন। তবে মন ও মননের উপর তখন ব্যাপক ভাবে তেমন জোর দিতে পারেন নাই। ফলে পার্থিবতার প্রাধান্য থেকে যায়, পার্থিবতার দাসত্বের  প্রভাব ও বিদ্যমান থাকে, আর সেই চিন্তার শ্রুত ধারায় পার্থিবতার আকাঙ্ক্ষাই বেশী গুরুত্ব পায়। এখন থেকে হ্রদয় কর্ষন করার চেস্টা থাকা দরকার- এই যুগটি হলো হ্রদয় কর্ষনের যুগ। তবে প্রশ্ন জাগে হ্রদয় কর্ষন করা হবে কেমন করে? কি বুঝা গেল; এটা হলো মনের একটি দিক, যেখানে আমরা পৌঁছতে পেরেছি, যাকে বলা যায়, মুক্তভাবে যোগ্যতা নিয়ে প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলা করার ক্ষমতা – আমাদের হ্রদয়-মন তার জন্য প্রস্তুত হতে চায়; পার্থিব সকল কিছুই প্রথমে আমাদের সামনে আসে, কম পক্ষে আমাদের পরিবার, কমনওয়েলথ, পিতৃভূমি সহ এমন কিছু বিষয় যা আমাদের হ্রদয়কে আনন্দিত করে।

আমাদের দৈনিন্দিন অভিজ্ঞতা বলে যে, অনেক সত্য ঘোষিত হবার পর ও অনেক বছর লেগে যায় হ্রদয় থেকে মেনে নিতে। তাই সোফিস্টিক ধারনা গুলো সুদির্ঘ কাল দুনিয়ার বুকে মানব সমাজে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তবে এই ধারনা এখন মানুষের হ্রদয়  থেকে বিদায় নেবার সময়  চলছে। ইতিমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ তাকে পুরাতন ভাব ধারা হিসাবে গন্য করে তা ত্যাগ করেছে।

সেই লড়াইটা সক্রেটিস শুরু করেছিলেন, তিনি তার সময় কালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই লড়াই চালিয়ে গেছেন, তবে তা কি শান্তি পূর্নভাবে শেষ হয়েছে।

প্রথমে সক্রেটিসের মাধ্যমেই শুরু হয় হ্রদয় ভিত্তিক আলোচনার সূত্রপাত, আর তখন থেকেই পাল্টে যায় আলোচনার মোড়। তাদের সর্ব শেষ চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় প্রাচীন সকল বিষয় সমূহ মূলধারা থেকে বাদ দেয়া হয়; এই কাজটি ছিলো আদতে সংশয়বাদিদের । সংশয়বাদের পথ ধরে এক সময় সংশয় মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়, যে ভাবে সোফিস্ট পন্থার পথ ছেড়ে সত্যিকার বুঝাপড়ার স্থরে মানুষ উন্নিত হয়ে ছিলো।

সোফিস্ট সংস্কৃতি ই বুঝাপড়ার সূত্রপাত করে, জ্ঞানের জগতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার রীতিতে আঘাত করে, এমন কি যারা সংশয়বাদি তাদের মন ও মনন অনেক ক্ষেত্রেই সঞ্চালিত হয় না ।

মানুষ যত দিন তার লড়াই সংগ্রামে লিপ্ত থাকে তত দিন সে দুনিয়ার সাথে তার যে নিজস্ব একটি সম্পর্ক আছে তা নিয়ে বিভ্রত থাকে- যখন পর্যন্ত না সে প্রাচীন ধ্যান ধারনা থেকে মুক্ত হতে পারছে। কারন প্রায়স মানুষ পার্থিবতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চেস্টা করে – নইলে সে যে একটি সত্বা হিসাবে স্বীকৃতি পায় না; শরীর বিহিন সত্ত্বার অস্থিত্ব থাকে না, ফলে পার্থিব জগতের সাথে ও তার বাস্তবসম্মত সম্পর্ক রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠে ; তার জন্য বিশ্বের অস্থিত্ব থাকে না, এমন কি প্রকৃতির সাথে ও থাকেনা কোন সংযোগ, কেবল আধ্যাত্মিকতা আর আধ্যাত্মিকতা ই ভর করে তার সকল সত্ত্বা জোরে। তাই মানুষকে প্রথমিক ভাবে অচেনা এবং উদাসীন হয়েই তৈরী হতে হবে, তার কোন প্রকার সম্পর্কেই থাকবে না, একজন সংশয়বাদি  হয়েই নিজেকে হাজির করতে হবে- দুনিয়ার সামনে নিজেকে এমন ভাবে উপস্থিত করবে যে সকল কিছু উলট পালট হয়ে গেলে ও তার মধ্যে কোন ভাবান্তর হবে না-  যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজেকে অপার্থব অবস্থায় উন্নিত করতে না পারবে; আর তাকেই আমরা বলি মন বা মনন। প্রাচীন মানুষ এই কর্মটিকেই নিজেদের জন্য সব চেয়ে মহান ও উঁচু মাপের কাজ হিসাবে বিবেচনা করতেন। আর সেই লোকেরা পরিচিত হতেন দুনিয়া বিরাগী সন্যাসি হিসাবে, যারা হলেন  আত্মার সাধক।

কেবল এখনই যদি, সকল পরম জ্ঞানের ক্ষমতা তাকে ছেড়ে চলে যায়, তবুও তিনি নিজেই সর্বে সর্বা, তিনি তার নিজের মধ্যেই মগ্ন, তিনি স্বয়ং আত্মা- আত্মার জন্য নিবেদিত, বা প্রচলিত কথায় বলতে হয় – তিনি কেবল আধ্যাত্মিকতাকেই অধিকতর গুরুত্ব দেন বা মনোনিবেশ করেন।

খ্রিষ্টান জ্ঞানের জগতে একদিকে শৃগালের মত ধুর্ততা অন্য দিকে আছে কবুতরের মত সরল দিক বিদ্যমান আছে, তাতে আরো দুটি দিক আছে তা হলো- বোঝাপড়া এবং অন্তরাত্মা। প্রাচীন কালে যা ছিলো মনের স্বাধীনতা তা আবার নতুন ভাবে মানুষের মাঝে আবির্ভূত হয়েছে, এটা নিজেকে বা অন্য কাউকে প্রতারিত করেনা । হোক তা পার্থিব বা প্রাকৃতিক বিষয় ।

এই ভাবে মানুষ আত্মার প্রতি ঝুঁকে পড়ে ছিলো, এবং এবং নিজেই আধ্যাত্মিক হয়ে উঠার চেষ্টা করেছিলো। তবে একজন মানুষ যখন নিজকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাধর হিসাবে গড়ে তোলার চস্টা করে তখন প্রায়স সে তার স্বাভাবিক কার্যক্রমের বাইরে ও কিছু কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠে;  সেই কাজ গুলো করতে গিয়ে এমন কিছু করে যার প্রকৃত কোন অর্থ হয় না । সে সেই কাজ গুলো করে কেবল বিশেষ কিছু অর্জনের জন্য। তার মন সকল সময় ই অবিরত চেষ্টা করে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করার জন্য, এবং সকল কিছুতে আত্মার সন্দ্ব্যান চলতে থাকে; সেই সাথে বিশ্বাস করা হয় যে “যা হয় ঈশ্বর থেকেই হয়”, এবং আগ্রহ থাকে সকল কিছুর প্রকৃত উৎস বেড় করে আনার জন্য; সেই দার্শনিক আত্মার ও যৌক্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়, যাকে আমরা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বলতে পারি।

আত্মা নয়, অথচ নিখুত ভাবে অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। যাতে কোন আধ্যাত্মিকতার স্থান নেই একেবারেই। প্রতিটি জিনিষের পেছনে আরো কিছুর অস্থিত্ব থাকে, সবার উপরে আরো থাকে চিন্তার জায়গা- তা প্রাচীন সময়ে ও ব্যবহার হয়েছে, যা আজো অব্যাহত আছে;  এখানেই শেষ নয়, তা আজো চেস্টায় আছে তার লক্ষ্য অর্জন করতে, তাই তাঁরা সদা সর্বদা প্রাস্তুত থাকে। এটা সকল মিথ্যার জাল ও শত্রুর বাঁধা অতিক্রম করে যায় ( তা তাদের জন্য চিত্তাকর্ষক ছিলো না, যেহেতু জেহুবা বা ঈশ্বর তাদের হ্রদয় থেকে দূরীভূত করেছেন “ঈশ্বর ভাবনা” বা “স্বর্গীয় পিতৃভূমির” ধারনা।) – তাঁরা তাদের পার্থিব ধ্যান ধারনার বিপরীতে, সুক্ষ দর্শীতার বা গভীর জ্ঞানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আজকের ইহুদিরা প্রাচীন কালের বাচ্চাদের চেয়ে খুব বশী দূর এগোতে পারে নাই; তাদের বোঝার ক্ষমতা, জ্ঞানের গভীরতা এবং বুদ্বির বিচক্ষনতা খুব সহজেই বস্তু জগতকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে, তবে তাঁরা আজ পর্যন্ত মানুষের আত্মাকে আবিস্কার করতে পারে নাই, অবশ্য তাঁরা তাকে হিসাবের মধ্যেই গন্য করেন না ।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে আধ্যাত্মিকতার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ আছে, কারন তাঁরা নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক মানুষ হিসাবে গন্য করে থাকে; কিন্তু ইহুদিরা এই বিষয়টি বুঝতেই চায় না, কোন প্রকার বিশুদ্বতার জন্য আধ্যাত্মিকতার চর্চা  করা প্রয়োজন তা তাঁরা মনে ও করেন না । তাঁরা কোন প্রকার আধ্যাত্মিকতার সূত্র ধরে বিকশিত হয়নি, আর আধ্যাত্মিকতা বলতে আমরা তো ধর্ম ভিত্তিক আধ্যাতিকতাকেই বুঝি, যেমন খ্রিস্টানগণ বিশ্বাস করেন, কোন কিছু এমনিতেই (কোন কাজ ছাড়া) পাওয়া যেতে পারে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মত ইহুদিগন কোন কালেই আধ্যাত্মিকতাবাদি ছিলেন না। আধ্যাত্মিকতার প্রশ্নে ইহুদিগন খ্রিস্টানদের থেকে পৃথক; খ্রিস্টানদের বিশ্বাস আধ্যাত্মিকতা ছাড়া মানুষ অপূর্ন, আধ্যাত্মিকতা অর্জন না করা মানুষের জন্য অবমাননাকর। তবে, ইহুদিগন কেবল বিশ্বাস করেন, “ বিশ্বের একটি চেতনা আছে”।

প্রাচীন জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় ব্যাপক ভাবে খ্রিষ্টান ভাবধারার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়- তাদের চিন্তায় দেখা যায় অলিক আত্মা ও আধ্যাত্মিকতার প্রভাব ব্যাপক ভাবে  প্রতিফলিত হয়েছে ।  এটা স্বর্গ থেকে এই ধরাতলের সর্বত্র সম্প্রসারিত।

কোন ব্যাক্তি যখন নিজের আপন সত্ত্বাকে স্বাধীন মনে করেন, কোন ভাবে নিজেকে নিপীড়িত না ভাবেন, তবে তিনি কোন কিছুতে চিন্তিত না হয়ে ও জীবন যাপন করতে পারেন, কেননা কোন কিছুই তাকে স্পর্শ করে না; যদি কেহ মনে করেন যে, কিছু যখন কারো উপর বুঝা হয়ে দেখা দেয়, সে তখন অনেক ক্ষেত্রেই সংকুচিত হয়ে পড়ে -  এমন কি নিজের প্রিয় জীবনটি নিয়ে ও উদ্ভিগ্ন হয়ে পড়ে। কেহ যখন নিজেকে সকল কিছুর কেন্দ্র বিন্দু হিসাবে নিজেকে চিন্তা করেন তখন নিজের জীবনের আনন্দ উপভোগ করার জন্য চারিপার্শ্বের সকল কিছুকেই ইচ্ছেমত  ব্যবহার করত চায়। তার সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটলে, তিনি পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে জীবন যাপন করতে থাকেন, আধ্যাত্মিক জীবনেও তিনি অভ্যস্থ হয়ে উঠেন তখন তিনি হয়ে উঠেন আধ্যাত্মিকতা নির্ভর মানুষ, তখন ক্রমে   তিনি পশুত্বের জীবন প্রনালী থেকে বেড়িয়ে আসতে থাকেন। খাদ্য অভ্যাসে আসে পরিবর্তন, চিন্তা ভাবনায় আসে অমর হবার বাসনা । কখনো কখনো তিনি পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে হয়ে পড়েন গভীর ভাবে  চিন্তামগ্ন । আধ্যাত্মিকতা তার জীবনে প্রাধান্য পায় – আর তার চিন্তা ভাবনা করে তুলে আচ্ছন্ন; তিনি অন্য কিছু তে তখন আর জড়িত হতে চান না- তার পর্যবেক্ষন, দার্শনিক চিন্তা ভাবনা – তিনি তার সকল কাজ ভেবে চিন্তেই করে চলেন পর্যায়ক্রমে। তখন থেকে শুরু হয় নয়া ভাবনার জগতের বিনির্মান। তিনি তখন বলে উঠেন, “ আমি চিন্তা করছি – তাই আমি আছি”। এর অর্থ হলো, আমার চিন্তা মাধ্যমে আমি জীবনকে উপস্থাপন করছি; যখন আমি অপার্থিব জীবন যাপন করি; তখন আমি ই হয়ে উঠি একটি প্রাণবন্ত আত্মা। অনেকটা পিটার শ্লেলেহিলের মতই বলতে হয়, যখন কোন মানুষ তার ছায়া হাড়িয়ে ফেলে, তখন একজন মানুষ আর কিছু থাকেন না –সেই মানুষটি হয়ে উঠে একটি  শয়ং আত্মা। আত্মার শরীর হয় তখন ছায়াহীন কায়া – এই চিন্তাভাবনা গুলো প্রচীন চিন্তকদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে পরিলক্ষিত হয়! তাঁরা অত্যন্ত শক্ত ও প্রানবন্ত ভাবে এই মতের পক্ষে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রবনতা ছিলো যে পার্থিব জীবন যাপনের বিপরীতে গিয়ে সত্যিকার জীবন বা অপার্থিব জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়া। সেই জীবনের জন্য কঠিন ও কঠোর পরিশ্রম করতে ও তাদের মধ্যে কোন কুন্ঠা ছিলোনা । তাদের চিন্তা ভাবনায় ছিলো খ্রিষ্টান ধর্মের ভাবাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত, তাঁরা দেখাতে চায় যে তাঁরা হলেন আধুনিক ও উদ্ভাবকদের ছেয়ে অধিক  অগ্রসর। তবে জীবনের বাস্তবতা ভিন্ন রূপ নিয়ে থাকে আধ্যাত্মিক জীবন ব্যবস্থা মানুষের জীবনের চাহিদা কোন ভাবে ই মেটাতে পারে না । এটা কেবলই চিন্তার জগতে “একটি প্রহেলিকা মাত্র”। এটা কোন “জীবন” কেবলই একটি চিন্তাধারা।

আমরা কোন ভাবে এটা বলতে পারিনা যে, প্রচীন কালের লোকেরা কোন চিন্তা ভাবনা করতেন না, তবে সেই চিন্তাধারা ছিলো অবাস্তব ও রহস্যে ঘেরা। কোন আধ্যাত্মিক মানুষ যেমন মরে গিয়ে আবার জীবিত হতে পারেনা বা নিজে নিজে গর্ভবতী হতে পারে না – তা তাদের চিন্তায় স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়নি। বরং তাঁরা সকল কিছুকেই ঈশ্বর তত্ত্ব ও দেহ তত্ত্বের ঘোরপ্যাঁচে বিচারের প্রয়াস পেয়েছে। এক অজানা রহশ্যময়তা তাঁদের সকল প্রকার সচেতনতাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। যদি ও তাঁরা সকল কিছু নিয়েই ভাবতেন তবে, তারা বাস্তব সম্মত চিন্তার কৌশল জানতেন না, “ তাঁদের চিন্তায় দুশ্চিন্তার প্রাধান্য ছিলো বশী” – খ্রিষ্টান চিন্তার বিষয় গুলো তাদেরকে তাড়াকরে ফিরত, তাঁদের ভাবনায় ছিলো, “ স্বর্গের সুখ ও নরকের যন্তনার ভয়; স্বর্গ উর্ধলোকে আর নরক হলো মর্তে” – উর্ধলোকের স্বর্গ পৃথিবী থেকে উত্তম”। তাঁরা তাঁদের পর্বর্তী প্রজন্মের নিকট ও এই ধরনের চিন্তার বিষয় গুলো প্রচার করে গেছেন ।

সুখ খোঁজার ভাবনা ও প্রাচীন লোকদের মাঝে ছিলো ? সত্যিকার জীবন বোধ ! তাঁদের জীবনের প্রতিটি স্তরেই এর প্রভাব দেখা যায় একেই তাঁরা খাঁটি জীবনভাবতেন।

গ্রীক কবি সাইমনাইডস গান গেয়েছেনঃ “ সুস্বাস্থ্য হলো আদর্শ ও মরনশীল মানুষের সম্পদ, সূন্দর্য, সৎ পথে রোজগার, বন্দ্বুদের সাথে নির্মল আনন্দ হল স্বর্গীয় অবদান”। এই সকল বিষয় মানব জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে। সাইনপের ডায়জেনস সত্যিকার আনন্দ ছেয়ে ছিলেন তার জীবনে, তিনি সকল অভাবের অবসান চাইছিলেন ? তিনি জানতে চেষ্টা করতেন জীবনে সর্বশেষ অভাব টি কি ? এরিস্টোপাস কি চাইতেন, তিনি জানতে চাইতেন সকল অবস্থায় খুশি থাকার কৌশল কি ? নিরানন্দের জীবন তিনি পছন্দ করতেন না, তার সাধনাই ছিলো “ ভালো ভাবে আনন্দ করার উপায় বেড় করা”।

স্টোইকগন বুঝার জন্য চেষ্টা করতেন যে, একজন জ্ঞানী লোক বাস্তব দর্শন নিয়ে কি ভাবেন, সেই মানুষেরা ভালো করেই জানেন কি করে দুনিয়ার সুন্দর করে বাঁচতে হয়। তাঁরা প্রায়স অপ্রত্যাশিত অবস্থার ও সম্মোখিন হয়ে থাকেন। পশ্চাৎপদ জীবন, অবিকশিত অবস্থা, সামাজিক ভাবে বন্দ্বুবান্দ্ববহীন জীবন, অন্যান্যদের সাথে তেমন ভাবে সম্পর্কি নয়। কেবল মাত্র স্টোইক জীবন, অন্যদের নিকট নিজকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, এপিকিউরাস সকল সময়েই একটি চলন্ত গতীশীল জীবন প্রত্যাশা করেছেন।

প্রাচীন লোকেরা ও চাইতেন একটি আনন্দময় জীবন যাত্রা। আশা করতেন একটি সুন্দর ভালো জীবন( যিশু নিজে শিশুদের জন্য দির্ঘ ও সুন্দর জীবন কামনা করতেন), ইউডোমিনিয়া, মানুষের জীবনের জন্য সুখ শান্তির প্রত্যাশা করচতেন। তিনি উদাহরন হিসাবে বলতেন মানুষে জন্য ডেমোক্র্যাটিক পন্থা থাকা দরকার – নইলে প্রকৃত শান্তি মানব জীবনে বিরাজ করবে না । “ প্রাশান্ত আত্মার জন্য” দরকার “ভয় ভীতিহীন উদ্বেগ উতকন্ঠাহীন পরিবেশ”- যা ডেমোক্র্যাটিক পন্থায় অর্জিত হতে পারে।

তাই তিনি ভাবেন তিনি তার প্রত্যাশা মত  যা কিছু  চাইছেন তাই পাচ্ছেন, তিনি উত্তম জিনিষ ই পেয়ে আসছেন, এমন কি দুনিয়ার উত্তম জিনিসই তিনি পাচ্ছেন। তবে তিনি দুনিয়ার এই আবেশ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছেন না- সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠার জন্য প্রাণান্তকর চেস্টার ও কোন ত্রুটি করছেন না কিন্তু বিধি বাব, দুনিয়াই যেন আরো শক্ত করে ধরে রাখে আস্টে পৃষ্টে বেধে রাখে ।  তিনি তার সাধনা বলে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা অর্জন করেন, উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে সকল স্বাধীকারে বাঁধা গুলো অতিক্রম করে যান। তিনি যতকাল দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে না পারবেন এবং পরম আত্মায় বিলিন হতে না পারবেন ততক্ষন পর্যন্ত পূর্ন স্বাধীনতা বা চূড়ান্ত মুক্তি পাবেন না ।

স্টোইকদের মনোভাব এবং আচরনিক দিক সমূহ অবশ্যই – বিশ্বজগতের স্বাভাবিক অবস্থার বিরুদ্বে বিবেচিত হয়; স্টোইকদের নৈতিকতা (তাঁদের বিজ্ঞান কিন্তু আত্মা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেনা, তা হলে তাঁরা কেমন করে দুনিয়ার নানা বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারেন? এমন কি প্রকৃতির যে বস্তুময় জগত আছে সেই সম্পর্কে ও স্পস্ট করে কিছুই বলতে তাঁরা অপারগ। তা হলে জ্ঞানীদের উচিৎ এদের বিরুধিতা করা।) এখানে আত্মার কোন নীতি বা সূত্র নেই। আদতে এটা হচ্ছে দুনিয়া সম্পর্কে এক ধরনের মনগড়া বক্তব্য প্রচার যে কেবলই প্রহেলিকার জন্ম দেয়। আবেগে আবস্ট করে সাধারন মানুষকে । এই ধরনের চিন্তা ধারা মধ্যে স্পস্ট ভাবে, “ অপূর্ন অপরিপক্ষ জীবন ভাবনার” প্রতিফল দৃশ্যমান- এখানে রোমান চিন্তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

রোমানগন ( হোরেসিও, সিসেরো এবং অন্যান্য চিন্তকগন) ও এর চেয়ে ভালো কোন দার্শনিক চিন্তা ভাবনার জন্ম দিতে পারেন নাই ।

এপিকুরিয়ানসদের প্রশান্তির চিন্তা তত্ত্বে ও এই ধরনের ভাবনার প্রতিফল দেখা যায় তাঁরা ও এর বেশী প্রতারনা মূলক শিক্ষাই  বেশী দিয়েছে। দুনিয়ার প্রতি ও তাঁদের আচরন অনেকটাই প্রতারনাশ্রয়ী, কেননা তাঁরা মনে করেন দুনিয়া ও আমাদের শত্রু। তাই শত্রুর সাথে প্রতারনা পূর্ন আচরনই হলো কাম্য ।

এই বিশ্ব জগতের সাথে মানুষের যে প্রচলিত যে বিশ্বাসের সম্পর্ক চলে আসছিলো তাতে প্রথম আঘাত হাতে সংশয়বাদ। টিমন বলেছিলেন, “ দুনিয়ার সাথে আমার যে সম্পর্ক তা মূল্যহীন ও সত্যহীন”। তার আরো ভাষ্য হলো- “ এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমার অনুভূতি হলো এতে কোন প্রকার সত্যতা নেই”। পিলাত চিৎকার করে বলেছিলেন, “ সত্য কি ?” পাইরোহের মতে, দুনিয়ায় ভালো বা খারাপ বলে কিছু নেই। সুন্দর ও কিছু নেই আবার অসুন্দর ও কিছু নেই। তা আদতে আমরাই নিরূপন করে থাকি। টিমন বললেন, “ মানুষই ভালো মন্দের মানদণ্ড”; এই দুনিয়াটি হলো বধির ও বোবা সে না পারে আমাদের সাথে কথা বলতে আর আমরা না পারি তার সাথে যোগাযোগ করতে, এটা একে বারেই আত্মকেন্দ্রীক এক ঝড় পিণ্ড।  এখানে কোন বিষয়কে সত্য বলে চিহ্নিত করার কোন প্রকার মানদণ্ড দেয়া হয় নাই । কিছু বস্তু আছে যা পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে; দ্বন্দ্ব হয়। মানুষের চিন্তার রাজ্যে ও কিছু মিথস্ক্রিয়া ঘটে ( একেই বস্তুকে  কিছু মানুষ ভালো বলে আর কিছু মানুষ মন্দ)।  মানুষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের প্রয়োজনেই কতিপয় বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় সত্য বলে, এতে আবার নিজের ক্ষমতার ও প্রকাশ ঘটায়, মানুষ আসলে বিশ্বের বহু কিছুকে এখনো চিন্তে পারে নাই, অনেক জিনিষ এখনো উপেক্ষিত হয়ে আছে, এবং তা অপ্রয়োজনীয় হিসাবে ও গন্য থেকে যাচ্ছে।

প্রাচীন বিশ্ব অনেক প্রাচীনত্বের ভেতর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে এসেছে, অনেক প্রাচীন প্রথা, আইন, রীতিনীতি ইত্যাদি; তবে সেই সকল আইন কানুন বা যন্ত্রপাতি প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। কিন্তু মানুষ সেই সকল জিনিষকে প্রকৃতির মতই বা সেই প্রকৃতির  অংশ হিসাবে বিবেচনায় নিয়েছে, সমাজ- যাকে মানুষ “ প্রাকৃতিক বন্দ্বন” হিসাবে বলে আসছে বহুকাল থেকে। খ্রিস্টিয়ান সংস্কৃতি এই ধারনার জন্ম দিয়ে লালন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। যে মানুষ আজ দুনিয়াকে সশস্ত্র অবস্থায় দেখছে- সে ভেবেই নিয়েছে তা একটি প্রাচীন বিষয়। স্বর্গ- ( ইহুদি, যিনি খ্রিষ্টান বা ইহুদি নন); যে মানুষ গুলো “মনের আনন্দ” নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, তাঁদের সামনে থাকে সঙ্গী সাথীদের চেতনা, তাঁদের আধুনিকতা বা তাঁদের খ্রিস্টানিটি।

প্রাচীন লোকেরা দুনিয়াকে জয় করার জন্য কাজ করে গেছেন, তাঁরা চেয়েছেন মানুষকে দুনিয়ার নানা সমস্যা থেকে  মুক্ত করতে আপ্রান চেষ্টা করেছেন। পরিশেষে তাঁরা রাস্ট্রকে বিলুপ্ত করার সিদ্বান্তে উপনিত হয়েছেন। তাঁরা সমাজ, পরিবার ইত্যাদিকে প্রকৃতির খেলায় পযুর্দস্ত হতে মুক্ত করতে চেয়েছে। এমনকি তাঁদের ভাবনায় যে দুনিয়ার প্রতি মায়ার কারনে  আধ্যাত্মিকতা বাঁধা প্রাপ্ত হয় তা ও তাঁরা দূর করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

 

Share on Twitter Share on Facebook

Comments

Recent Posts

Archive

2018

Categories

Authors

Feeds

RSS / Atom
Help us

Please consider donating to help us organise and grow.